[ad_1]
ক্রিকেটের ‘কিং’ খ্যাত বিরাট কোহলির প্রিয় অ্যাডিলেড ওভালে এক অবিস্মরণীয় ও দুঃখজনক সমাপ্তি ঘটলো। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ভারতীয় ক্যাপ্টেন কোহলি মাত্র চার বল খেয়েই জেরক্সিয়া বার্টলেটের ইনসুইংয়ার শিকার হয়ে শূন্যে ফিরে যান। ফলে অস্ট্রেলিয়া দুই উইকেটে জয় নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ এগিয়ে যায়। ভারতের ২৬৪ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া ৪৬.২ ওভারে অর্জন করে। অজি যুবকদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এই জয়টি তাদের ওডিআই ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সংকেত।
ম্যাচের শুরুতেই ভারতের টপ অর্ডার ধসে পড়ে। টস জিতে প্রথম ব্যাটিংয়ে নামা ভারত ২৬৪/৯ রান করে। ওপেনার শুভমান গিল ১৩ রানে আউট হওয়ার পর রোহিত শর্মা (৭৩ রান, ৯৭ বল) এবং শ্রেযস আয়ার (৬১ রান, ৭৭ বল) ৮৮ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ভারতকে ফিরিয়ে আনেন। রোহিত জোশ হ্যাজলউডের নতুন বলের আক্রমণ সামলে ৬২ বলে ৩০ রানের পর গতিতে ফিরে আসেন। মিচেল ওয়েনের মিডিয়াম পেসে দুটি সিক্স স্ম্যাশ করে তিনি মোমেন্টাম তৈরি করেন। কিন্তু শেষের দিকে হর্ষিত রানা এবং অর্শদীপ সিংয়ের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে স্কোর ২৫০ ছাড়িয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ে অ্যাডাম জাম্পা ৪/৪৫ নিয়ে সেরা ছিলেন, আর বার্টলেটের ৩ উইকেট কোহলির মতো তারকাকে ধরাশায়ী করেন। কোহলির এই শূন্যটি তার ওডিআই ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় টানা ডাক—এমনটি আগে কখনো হয়নি।
অ্যাডিলেড ওভালে কোহলির ১৫ বছরের স্মৃতি—অসংখ্য শতক এবং জয়ের হাতিয়ার—একটি নীরব গ্লাভসের অ্যাকনলেজমেন্টে শেষ হয়। মেম্বার্স প্যাভিলিয়নের দিকে হাত তুলে তিনি মাঠ ত্যাগ করেন, যেন এক অসমাপ্ত বিদায়ের সংকেত। অথচ অ্যাডিলেডে তার গড় ছিলো ৭৮.৫০।
অ্যাডিলেড, এই শহরের নাম শুনলেই বিরাট কোহলির মুখে হাসি ফুটতো। হিন্ডলি স্ট্রিটের সেই একটি ক্যাফে, টরেন্স নদীর উপর পায়ে হেঁটে যাওয়া ফুটব্রিজ, আর অ্যাডিলেড ওভালের মাঝখানের পিচ—এসবই ছিল তার ‘নিজের জায়গা’। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই শহরই তাকে দিলো এক অপ্রত্যাশিত বিদায়।
পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার চেইজে যুবকদের উত্থান দেখা যায়। মিটচেল মার্শ এবং ট্রাভিস হেডের প্রথম দুই উইকেট পড়ার পর ম্যাট শর্ট (৭৪ রান, ৭৮ বল) ভিত্তি গড়েন। তার স্কোর ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তারপর কুপার কানোলি (৫০* রান) এবং মিচেল ওয়েন (৩৬ রান, ২৩ বল) দুর্দান্ত ফিনিশ দেন। ২২ বছরের কানোলি, বিবিএল ফাইনালের তারকা, মাত্র ৭ এর হাইয়েস্ট স্কোর নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন কিন্তু একটি বিশাল সিক্স সহ অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে আসেন। ওয়েনের ১৪ রানের ওভার এবং সিক্স ভারতের বোলারদের হতাশ করে। শেষ ১০ রানে বার্টলেট এবং স্টার্কের উইকেট পড়লেও কানোলির শান্ত মাথায় অস্ট্রেলিয়া জয়ী হয়।
এদিকে ভারতের কোচ এবং সিলেক্টররা এখন প্রশ্নের মুখোমুখি, ২০২৭ ওয়ার্ল্ডকাপ পর্যন্ত কোহলি (৩৬) এবং রোহিত (৩৭)-এর ‘লং রোপ’ কতদিন টিকবে? অস্ট্রেলিয়া যখন শর্ট, কানোলি, ওয়েনের মতো ২০-এর যুবকদের ব্যাক করে ভবিষ্যত গড়ছে, ভারতের বর্তমান নস্টালজিয়ায় আবৃত। বার্টলেটের ওডিআই অ্যাভারেজ এখন ১১.১৩—১৫ উইকেট নিয়ে তিনি নতুন তারকা।
সিরিজের শেষ ম্যাচ শনিবার সিডনিতে। ভারতের জন্য এটি ‘ডেড রাবার’ কিন্তু গর্ব ফিরিয়ে আনার সুযোগ। কোহলির ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় কী—কোচিং নাকি শেষ ওয়ার্ল্ডকাপের গর্জন? ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায়।
সূত্র: ক্রিকবাজ
[ad_2]
Source link

