[ad_1]

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেটে হেরেছে টাইাগাররা। 

এর আগে প্রথম দুই ম্যাচ ক্যারিবীয়দের কাছে যথাক্রমে ১৬ ও ১৪ রানে হেরেছিলো বাংলাদেশ। আজকের পরাজয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হারলো লিটন দাসের দল।

শুক্রবার চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ ওভারে ২২ রান তোলে স্বাগতিক বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ১ ছয়ে ৯ রান করে স্পিনার রোস্টন চেজের শিকার হন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন।

তিনে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক লিটন দাস। খারি পিয়েরের বলে গুদাকেশ মোতিকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ৬ রান করা লিটন।

৪৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। তাদের ব্যাটে ভর করে ১০ ওভারে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৭ রান। 

১১তম ওভারে টি-টোয়েন্টিতে দশম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ। এজন্য ৩৬ বল খেলেছেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার।

১৫তম ওভারে বাংলাদেশের রান ১০০’তে নেন তানজিদ ও সাইফ। তবে একই ওভারে জেসন হোল্ডারের বলে আউট হন সাইফ। ২ ছয়ে ২২ বলে ২৩ রান করেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে ৪৩ বলে ৬৩ রান যোগ করেন তানজিদ-সাইফ।

দলীয় ১০৭ রানে সাইফ ফেরার পর টানা চার ওভারে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেন ৩, নুরুল হাসান সোহান, নাসুম আহমেদ ১ ও জাকের আলি ৫ রানে ফেরেন।

সতীর্থরা যাওয়া-আসার মিছিলে থাকলেও একপ্রান্ত আগলে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তানজিদ। কিন্তু শেফার্ডের করা শেষ ওভারের প্রথম বলে মিড অফে হোল্ডারকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তানজিদ। ৯টি চার ও চার ছয়ে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন তিনি। পরের বলে শরিফুল ইসলামকে শিকার করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন শেফার্ড।

কারণ ১৭তম ওভারের শেষ বলে সোহানকে শিকার করেছিলেন তিনি। এরপর ২০তম ওভারের প্রথম দুই বলে তানজিদ ও শরিফুলকে আউট করেন শেফার্ড। হোল্ডারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করলেন শেফার্ড।

শেষ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৯ রান তোলে বাংলাদেশ। ২০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান করে টাইগাররা। বাংলাদেশের হয়ে তানজিদ ও সাইফ ছাড়া আর কোনো ব্যাটারই দুই অংকের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৯ রান করে করেন পারভেজ ও তাসকিন আহমেদ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেফার্ড ৩টি, হোল্ডার ও পিয়েরি ২টি করে উইকেট নেন।

১৫২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে তৃতীয় ওভারে উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১ রান করে স্পিনার মাহেদি হাসানের বলে স্টাম্পড আউট হন ক্যারিবীয় ওপেনার অ্যালিক আথানাজে।

শুরুতে সতীর্থকে হারালেও পাওয়ার প্লের সুবিধা নিতে দ্বিতীয় উইকেটে ১৭ বলে ৩১ রান যোগ করেন আরেক ওপেনার আমির জাঙ্গু ও ব্রান্ডন কিং। ৮ রান করা কিংকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন স্পিনার নাসুম আহমেদ।

উইকেটে সেট হয়ে বাংলাদেশের ইনফর্ম স্পিনার রিশাদ হোসেনের বলে আউট হন দুইবার জীবন পাওয়া জাঙ্গু। ৫টি চার ও ১ ছয়ে ২৩ বলে ৩৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পথ সহজ করেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ ও আকিল আগস্তে। রিশাদের করা ১৩তম ওভারে ৩ ছয়ে ২১ রান নেন আগস্তে। ১৫ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৪৩ রান তুলে বড় জয়ের অপেক্ষা ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ১৬তম ওভারে চেজ ও আগস্তেকে শিকার করেন রিশাদ। ৫টি চার ও ১ ছয়ে চেজ ২৯ বলে ৫০ রান করেন। ২৫ বলে ৫০ রান করতে ১টি চার ও ৫টি ছয় মেরেছেন আগস্তে।

শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ উইকেটে বাকী ৮ রান তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় নিশ্চিত করেন রোভম্যান পাওয়েল ও মোতি। পাওয়েল ৫ ও মোতি ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের রিশাদ ৪৩ রানে ৩ উইকেট নেন।    

বাংলাদেশ: ১৫১/১০, ২০ ওভার (তানজিদ ৮৯, সাইফ ২৩, শেফার্ড ৩/৩৬)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৫২/৫, ১৬.৫ ওভার (চেজ ৫০, আগস্তে ৫০, রিশাদ ৩/৪৩)।

[ad_2]

Source link

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version