[ad_1]
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নজুড়ে মহা আতঙ্কের নাম ডাকাত আলম। একসময় আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত এই অস্ত্রধারী ব্যক্তি এখন বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার হয়ে আধিপত্য বিস্তার করছেন। ২০-৩০ জন অস্ত্রধারী নিয়ে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য ও সংগঠিত বাহিনী নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে আলম।
জানা যায়, রাউজানের বাঘা বাঘা সন্ত্রাসী ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হলেও কদলপুরের ত্রাস জানে আলম প্রকাশ ডাকাত আলমকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ ও র্যাব।
স্থানীয়রা জানায়, কদলপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভোমরপাড়া গ্রামের মৃত আজিজুল হক প্রকাশ বাসেক ড্রাইভারের পুত্র ডাকাত আলম অপরাধ জগতে প্রায় দুই যুগ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় রয়েছে ১৫টি মামলা। এছাড়া তার পরিবারটি এলাকায় আলোচিত। পরিবারের সকলের পেছনে রয়েছে এক-একটা পরিচিতি। তার মা লেডি ডাকাত মনেক্কা নামে পরিচিত। তার ভাইও ডাকাত আজাদ নামে পরিচিত ছিল। ডাকাত আলমসহ তার বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আয়ত্তের বাইরে রাখতে এ বাহিনীর কাছে রয়েছে চারটি পুলিশি মানের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট এবং পাহাড়তলী মোড়ের সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ভিডিও ফিড পাওয়ার ব্যবস্থা, যা সরাসরি আলমের মোবাইলে দেখা যায়। ফলে এলাকাজুড়ে কে কোথায় চলাফেরা করছে, এমনকি পুলিশি গতিবিধিও দ্রুত জানতে পারে আলম ও তার বাহিনী। এ কথায় গোটা এলাকায় নজরদারি কায়েম করেছেন এ বাহিনী।
এলাকাবাসী বলছে, তাদের হাতে রয়েছে একটি একে-৪৭, তিনটি শটগান, নয়টি শাটার গান, দুটি তুর্কি বন্দুক, চারটি ভারতীয় ৭.৬ এমএম পিস্তল এবং প্রায় ৩০-৩৫টি দেশীয় তৈরি বন্দুক। কিছু কিছু অস্ত্র লুকাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদেরও ব্যবহার করে তারা।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, আলমের পাশে অন্তত পাঁচজন সশস্ত্র সহযোগী দাঁড়িয়ে আছে। কারও হাতে শটগান, কারও হাতে শাটার গান, আবার একজনের হাতে ঝুলছে সেনাবাহিনীর ব্যবহিৃত একে-৪৭ ধাঁচের আধুনিক অস্ত্র। ভিডিওটিতে তাদের নির্ভীক উপস্থিতি এলাকাবাসীর মধ্যে আরও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একাধিক পরিবার জানিয়েছে, যে বাড়ি থেকে সম্প্রতি ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে, সেই বাড়ির লোকের কাছ থেকে আলম ৪ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দেওয়ায় পরিবারটিকে ঘরছাড়া করে দেয়।
এ ডাকাত আলমকে গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকার মানুষ।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৫ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আলমের ভাই আজাদসহ চারজন নিহত হন, সে সময় অল্পের জন্য বেঁচে যান আলম। অভিযানের সময় ১টি লাইসেন্সধারী বন্দুক নিখোঁজ হয়, যা দিয়েই পরবর্তী সময়ে তার অপরাধী নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হয় বলে অভিযোগ। আলম ৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে দিবালোকে এসে এলাকার আধিপত্য বিস্তার শুরু করে সে। প্রথমে পরীর দীঘির বাজারে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যেদিবালোকে বাইলে প্রকাশ বাইল্লে তোতাকে খুন করে আলোচনায় উঠে আসে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায়। এরপর ঊনসত্তরপাড়ার নূর মোহাম্মদ হাজী প্রকাশ পোয়ান হাজীকে খুন করে। এ সময় লুট করে নিয়ে যায় লাইসেন্স করা একটি বন্দুক। এর আগে কাপ্তাই সড়কের জিয়ানগরে ট্রাক ডাকাতি করার সময় ট্রাকের ডাইভারকে গুলি করে হত্যা করে। কদলপুরের জয়নগর বড়ুয়া পাড়ার মৃদুল বড়ুয়াকে হত্যা করে। কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া এলাকায় এক উপজাতি নারীকে গুলি করে হত্যা করে। চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে এক আবাসিক হোটেলের মানিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। রাঙ্গুনীয়া পোমরা এলাকায় ডাকাতি করতে গিয়ে এক দুবাই প্রবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। রাঙ্গুনীয়া বেতাগী থেকে ব্যবসায়িকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে। পরে চিনে ফেলায় কদলপুরের পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। অভিযোগ রয়েছে কদলপুরের ভোমরপাড়া গ্রামের ডা. ফরিদের এক মেয়েকে অপহরণ করে রাঙামাটিতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ মামলায় তার সাজা হয়েছিল। অনেক দিন জেলেও ছিল। এ মামলায় তার ভাই আজাদ ও তার মা মনেক্কা আসামি ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে রাউজানে ১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যার বেশিরভাগই রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজির ভাগবাঁটোয়াকে কেন্দ্র করে।
এ বিষয়ে আলম দাবি করেন, অস্ত্র নিয়ে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বানানো। এর আগে কখনো মেয়ে দিয়ে ভিডিও বানাইছে, কখনো অন্য কোনো কিছু দিয়ে। সিসিটিভি লাগানোর মতো টাকা আমার নেই। আমি গরিব।
রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। কেউ অপরাধ করলে তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তাকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাউজানে বর্তমানে সাতটি গ্রুপ সক্রিয়। তাদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চলছে। প্রায় প্রতিদিনই আমরা অস্ত্র উদ্ধার করছি, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করছি। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া আলমের অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কোনো অপরাধী আমাদের নজরদারির বাইরে নেই।
[ad_2]
Source link

