[ad_1]
ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেয়ার পর পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা হারেনি বটে, তবে মন মোটেও ভরেনি দলের প্রথম বিদেশি কোচের। তাঁর অধীনে তিন ম্যাচে ব্রাজিলের অপরাজেয় রেকর্ড বজায় থাকলেও, সেলেসাওদের পারফর্মেন্সে মন ভরছিলো না আনচেলত্তির।
তিনি এমন একটা ব্রাজিল দলকে দেখতে চাচ্ছিলেন যেখানে হলদু জার্সিধারীরা একচেটিয়া দাপট দেখাবে। আর সেজন্য লাতিনের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। চিলির বিপক্ষে কার্লো আনচেলত্তি চেয়েছিলেন ব্রাজিল যেন ঘরের মাঠে তাদের শেষ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ মারাকানায় খেলে।
কোচের ইচ্ছা পূরণে ঐতিহাসিক এই ভেন্যুতে চিলির বিপক্ষে ম্যাচ ঠিক করে ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। প্রায় ৫৭ হাজার দর্শকের সামনে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় ব্রাজিল কোচ শিষ্যদের ৩-০ ব্যবধানে বড় জয়ের সাক্ষী হলেন। সেই সঙ্গে ব্রাজিলের খেলায় তিনি যেন সেই ধারও খুঁজে পেলেন।
ম্যাচ শেষে বেশ কয়েকজনের প্রশংসা করেছেন আনচেলত্তি, তবে বেশি স্তুতি করেছেন দুটি গোলে অবদান রাখা লুইজ হেনরিককে নিয়ে। চিলির বিপক্ষে অনায়াস জয়ের পর এস্তেভাও উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন, অন্যদিকে লুইজ হেনরিক নিয়মিত একাদশে অন্তর্ভুক্তির দাবিও জোরদার করেছেন।
ডগলাস সান্তোসও অপ্রত্যাশিত ভূমিকায় মুগ্ধ হয়েছেন কোচ আনচেলত্তি। দলটির হয়ে এদিন গোল করেছেন তরুণ তারকা এস্তেভাও উইলিয়ান, লুকাস পাকেতা ও ব্রুনো গুইমারেস। দ্বিতীয় গোলে সরাসরি বলের যোগান (অ্যাসিস্ট) দিয়েছিলেন হেনরিক, তৃতীয় গোলেও তার অবদান ছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জায়গা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। বিপরীতে, চিলির খেলার মতো কিছুই ছিল না, দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বের টেবিলের নিচে রয়েছে এবং গাণিতিকভাবে বাদ পড়ে। মারাকানার জনাকীর্ণ পরিবেশ সত্ত্বেও, ম্যাচটি ছিল একটি গৌরবময় প্রীতি ম্যাচের চেয়ে সামান্যই।
ভেনেজ়ুয়েলাকে ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনার হারানোর দিনে জয় পেল ব্রাজ়িল। চিলিকে ৩-০ গোলে হারানো। দলে ছিলেন না নেইমার, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রদ্রিগোর মতো তারকারা। তবে সেরাদের ছাড়াই বাজিমাত করলেন কার্লো আনচেলত্তি। পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে সমর্থকদের মনে আশা জাগালেন।
মাত্র ১৭ বছর বয়সী চেলসির এস্তেভাও খুব কাছ থেকে বাইসাইকেল কিক দিয়ে ব্রাজিলের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে গোলের সূচনা করেন। এরপর লুকাস পাকুয়েতা এবং ব্রুনো গুইমারেস গোল করেন, উভয়কেই ইলেকট্রিক লুইজ হেনরিকের সহায়তায় সাহায্য করেন, যিনি বেঞ্চ থেকে নেমেই সবার নজর কাড়েন।
শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছিল ব্রাজিল। আগেই তারা বিশ্বকাপের টিকিট পাকা করেছিলো, ফলে এই ম্যাচে তারা ফুরফুরে মেজাজে ছিল। মারাকানায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রেখেছে ব্রাজ়িল। পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বলের দখল রাখে ব্রাজ়িল। মোট ২২টা শট নেয় ও যার মধ্যে আটটা শট গোলে রাখে। অন্যদিকে চিলি একটিও শট গোলে রাখতে পারেনি।
তবে চিলি আক্রমণ সেভাবে করতে না পারলেও তারা ডিফেন্সের দিকে জোর দেয়। তারা অতিরক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিল। ফলে ব্রাজ়িলের প্রথম গোল পেতে সময় লাগে। ৩৮ মিনিটে আসে প্রথম গোল। এস্তেভাও বাইসাইকেল কিকে গোল করে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে লুইস হেনরিককে নামান আনচেলত্তি । তিনি নামতেই ছবি বদলে যায়। ৭২ মিনিটে তিনি পাকেতাকে গোলের বল বাড়ান। বাঁ দিক থেকে ড্রিবল করে পাকেতাকে ক্রস বাড়ান ও পাকেতা হেডে গোল করেন। শেষ গোলেও ছিল হেনরিকের অবদান। ডান দিক থেকে উঠে তিনি গিমারেসকে বল বাড়ান। দারুণ এক ড্রিবল করে শট নেন। বলটা বারে লেগে ফিরে আসে ও ফিরতি বলে শট নিয়ে গোল করেন গিমারেস।
অল্প সময়েই হেনরিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে ম্যাচ শেষে প্রশংসাও পেলেন আনচেলত্তির, ‘লুইজ হেনরিক অসাধারণ প্রতিভাবান। শারীরিকভাবে শক্তিশালী, এক বনাম একের লড়াইয়ে দুর্দান্ত। দারুণ ফিটনেস দিয়ে ম্যাচের ধারা পাল্টে দিয়েছে সে। যখন অন্যরা ক্লান্ত, তখন এমন প্রতিভাবান খেলোয়াড় মাঠে নামলে খেলা বদলে যায়। জাতীয় দলের জন্য এ ধরনের খেলোয়াড় থাকা অনেক বড় সুবিধা।’
ম্যাচটা জিতে লাতিন আমেরিকার বাছাইয়ে ১৭ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজ়িল রইল দ্বিতীয় স্থানে। গ্রুপের সবার নিচে রইল চিলি। তাদের পয়েন্ট ১৭ ম্যাচে ১০।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন কার্লো আনচেলত্তি। এরপর থেকে ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগ থেকে শুরু করে ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা দেশটির খেলোয়াড়দের ওপর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ চালিয়ে তিনি খেলোয়াড় বাছাই করেছেন। ফলে নেইমার-ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোদের মতো পরীক্ষিতদের বাদ দিয়েও পরীক্ষা চালাতে কার্পণ্য করেননি এই ইতালিয়ান কিংবদন্তি কোচ। এখন পর্যন্ত আনচেলত্তির অধীনে ৩ ম্যাচ খেলে ব্রাজিল দুটি জয় ও একটিতে ড্র করেছে।
[ad_2]
Source link

